অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সকল নিয়ম
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সকল নিয়ম গুলো যদি আপনার জানা থাকে, তাহলে অন্যের দ্বারস্থ না হয়ে নিজে নিজেই আপনি আপনার আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত করতে ও জমা দিতে পারবেন । আর এতে করে আপনাকে যেমন অন্য কারো সহয়তার জন্য বসে থাকতে হবেনা, আবার নিজের আয় ব্যয়ের হিসেব বিবরণী নিজেই জেনেবুঝে তৈরি করে দাখিল করতে পারবেন ।
সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি বা আধাসরকারি প্রতিষ্ঠানের বেশকিছু সেবা রয়েছে যেগুলো গ্রহন করতে হলে সেবা গ্রহীতার টিন সার্টিফিকেট থাকা বাধ্যতামুলক করা হয়েছে, যার কারণে অনেকেই টিন সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন এবং রিটার্ন দাখিল নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। আশা করি আজকের এই আর্টিকেলটা সম্পুর্ন পড়ার পরে আপনি আপনার আয়কর রিটার্ন নিজে নিজেই অনলাইনে দাখিল করতে পারবেন।
পেজ সুচিপত্রঃ অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সকল নিয়ম
- অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সকল নিয়ম
- আয়কর কি ? আয়কর কেন দিবো
- আপনাকে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে কি না
- আপনাকে আয়কর দিতে হবে কি না
- আয়কর রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া শুরু করবেন যেভাবে
- e-Return সিস্টেমে রেজিষ্ট্রেশনের জন্য কি কি প্রয়োজন
- e-Return সিস্টেমে রেজিষ্ট্রেশন করার পদ্ধতি
- e-Return সিস্টেমে সাইন ইন করে যেভাবে রিটার্ন দাখিল করবেন
- অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় কি কি ডকুমেন্ট প্রয়োজন
- ব্যক্তিশ্রেণীর করের হার কি পরিমানে নির্ধারন হয়
- অনলাইন রিটার্ন দাখিলের পরে, কর অফিসে কিছু দাখিল করতে হবে কি না
- পরিশেষে
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সকল নিয়ম
আয়কর কি ? আয়কর কেন দিবো
আপনাকে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে কি না
আপনাকে আয়কর দিতে হবে কি না
আয়কর রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া শুরু করবেন যেভাবে
অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের জন্য প্রথমে e-Return সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। e-Return সিস্টেমে রেজিষ্ট্রেশনের জন্য প্রথমে জাতীয় রজস্ব বোর্ড বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইটে www.etaxnbr.gov.bd গিয়ে রেজিস্ট্রেশনের সম্পন্ন করতে হবে। এর জন্য আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র দিয়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত একটি সিম থাকা অতীব জরুরী।
যদি আপনার NID দিয়ে রেজিষ্ট্রেশনকৃত কোন সিম না থাকে তবে, প্রথমেই একটা সিম আপনার NID দিয়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে রেজিষ্ট্রেশন করে নিন। তারপরে e-Return সিস্টেমে রেজিষ্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু করুন। অন্যথায় রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারবেন না।
e-Return সিস্টেমে রেজিষ্ট্রেশনের জন্য কি কি প্রয়োজন
e-Return সিস্টেমে রেজিষ্ট্রেশনের জন্য তেমন বাড়তি কোন ডকুমেন্টের প্রয়োজন নেই শুধু আপনার TIN নাম্বার এবং আপনার নিজ NID দিয়ে রেজিষ্ট্রেশনকৃত সিম থাকলেই চলবে কারন সেই ফোন নাম্বারে একটি ওটিপি আসবে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করার জন্য।
নিজ এনআইডি দিয়ে রেজিষ্ট্রেশনকৃত সিম ব্যতিতো কোন অবস্থাতেই e-Return সিস্টেমে রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন হবে না । অতএব রেজিষ্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু করার পুর্বে নিশ্চিত হয়ে নিন যে, আপনার সিম টা আপনার নিজের এনআইডি দিয়ে রেজিষ্ট্রেশনকৃত কি না ।
e-Return সিস্টেমে রেজিষ্ট্রেশন করার পদ্ধতি
আমরা জেনেছি যে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া কিভাবে শুরু করতে হয় এবং রেজিস্ট্রেশন করার জন্য কি কি প্রয়োজন। এখন রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার পালা। জাতীয় রজস্ব এর ওয়েবসাইটে www.etaxnbr.gov.bd গিয়ে I am not Registered yet বাটনে ক্লিক করে পরবর্তিতে আপনার TIN নাম্বার এবং মোবাইল নাম্বার ইনপুট দিয়ে ভেরিফাই বাটনে ক্লিক করতে হবে।
ভেরিফাই বাটনে ক্লিক করলে আপনার মোবাইল ফোনে ৬ ডিজিটের একটা ওটিপি আসবে সেটা নির্ধারিত জায়গায় বসিয়ে এবং তার নিচে পাসওয়ার্ড এর ঘরে নতুন একটা পাসওয়ার্ড সেট করতে হবে। এবং এরপরে রেজিষ্টার বাটনে ক্লিক করলে যদি ওটিপি ঠিক থাকে তাহলে রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন হবে।
e-Return সিস্টেমে সাইন ইন করে যেভাবে রিটার্ন দাখিল করবেন
প্রথমবার সফলভাবে রেজিস্ট্রেশন করার পর সাইন ইন করে প্রোফাইলের তথ্য প্রয়োজন অনুসারে আপডেট করতে পারবেন এরপর ধাপে ধাপে আপনার খাত ভিত্তিক আয়, বিনিয়োগ, পারিবারিক ব্যয়, সম্পদ ও দায় এবং কর পরিষদের তথ্য ইনপুট দিয়ে সহজেই রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
উল্লেখ্য তথ্য ইনপুট দেবার সময় সকল প্রমাণ ও তথ্য দেখে সঠিকভাবে ইনপুট দেওয়া জরুরী কেন না এখানে আপনার সকল আয় ব্যয় এবং সম্পদ বিবরণীর বিস্তারিত তথ্য রাজস্ব বোর্ডের সার্ভারে সংরক্ষিত থাকবে সে জন্য যথাযথ তথ্য ও সঠিক বিবরণী ইনপুট দিয়ে রিটার্ন দাখিল করাটা অতীব জরুরী। সকল তথ্য ইনপুট দেয়া হয়ে গেলে একবার রিভিউ করে নিন, সকল তথ্য সঠিক হলে আপনার রিটার্ন টি সাবমিট করুন। তাহলেই আপনার কাজ শেষ।
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় কি কি ডকুমেন্ট প্রয়োজন
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য রেজিষ্ট্রেশ করার সময় কোন ডকুমেন্ট না লাগলেও অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় বেশকিছু ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয় । কারন রিটার্ন দাখিলের সময় আপনার সকল প্রকার আয়ের বিবরন উল্লেখ করতে হয় । এবং কোন কোন উৎস হতে কত পরিমান আয় হয়েছে সেটাও তুলে ধরতে হয়। এছাড়াও আপনার সম্পদ বিবরনীতে আপনার সমস্ত সম্পদের বিবরন ইনপুট দিতে হয় ।
ব্যক্তিশ্রেণীর করের হার কি পরিমানে নির্ধারন হয়
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) কর্তৃক ২০২৫-২০২৬ করবর্ষে সাধারণ ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা ৩,৫০,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং নারীদের ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষদের জন্য ৪,০০,০০০ টাকা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ৪,৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারন করা হয়েছে।
নিচে ছকের মাধ্যমে ব্যাক্ত শ্রেণীর করের হার তুলে ধরা হল
| কর ভিত্তি | কর হার |
|---|---|
| প্রথম ৩,৫০,০০০ | শূন্য |
| পরবর্তী ১,০০,০০০ | ৫ % |
| পরবর্তী ৪,০০,০০০ | ১০% |
| পরবর্তী ৫,০০,০০০ | ১৫% |
| পরবর্তী ৫,০০,০০০ | ২০% |
| অবশিষ্ট মোট আয়ের উপর | ২৫% |
| এলাকার বিবরণ | ন্যূনতম কর হার (টাকা) |
|---|---|
|
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অবস্থিত করদাতা |
৫০০০ টাকা |
| অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অবস্থিত করদাতা | ৪০০০ টাকা |
| সিটি কর্পোরেশনের বাইরের এলাকায় অবস্থিত করদাতা | ৩০০০ টাকা |



ভদ্রতা বজায় রেখে প্রসঙ্গীক কমমেন্ট করুন
comment url