সম্পদ অর্জনের ম্যাকিয়াভেলিয়ান গাইড
কখনও কি মাথায় এসেছে যে, কিছু লোক প্রায় কষ্ট না করেই কিভাবে যেন পুরো দুনিয়া টা চালিয়ে নিচ্ছে। আর ঠিক তার উল্টো দিকে এমন অনেকেই আছেন যারা দিনরাত এক করে খাটছেন, কিন্তু দিন শেষে পকেটা খালিই থেকে যাচ্ছে।
এর পেছনের কারন টা কি শুধু ভাগ্য ? নাকি বহু বছরের পুরনো এক তত্ব, ক্ষমতা আর অর্থের এক খেলা, যা ম্যাকিয়াভেলি শিখিয়ে গিয়েছিলেন ।
চলুন আজ এই বিষয়টা নিয়ে একটু গভিরে যাওয়া যাক। দেখুন ছোটবেলা থেকেই আমাদের প্রায় সবাইকেতো শিখানো হয়েছে যে, কঠোর পরিশ্রম করলেই সাফল্য আসবে, ধনী হওয়া যাবে, কিন্তু সত্যি কি তাই ? একবার ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখুন তো, যদি পরিশ্রম করলেই ধনী হওয়া যেতো, তাহলে তো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী হওয়ার কথা ছিল দিন মজুর শ্রেণীর মানুষের, কোন কোম্পনীর মালিকের নয় । আসল সত্যিটা হল, এই পুরো সিস্টেম টা এমন ভাবে সাজানো, যেখানে, যারা সিস্টেম টা বানিয়েছে মানে মালিকরা, তারাই সবসময় লাভবান হয়,
ম্যাকিয়াভেলির খুবই শক্তিশালী একটা কথা আছে, এটাই আমাদের আজকের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
তিনি বলেছেন, “পৃথিবীতে মানুষ মাত্র দুই প্রকারের” এক দল- যারা শিকার করে আর অন্য দল- যাদেরকে শিকার করা হয়। এর মাঝে আর তৃতীয় কোন দল নেই । এই রুঢ়ো শত্যটা মাথায় রেখেই কিন্তু আমাদের আলোচনাটা বুঝতে হবে। সাধারন মানুষ যে একটা আর্থিক সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে জীবন কাটায়, এটা কিন্তু হুট করে ঘটে যাওয়া কোন ঘোটনা নয় । এটা আসলে খুব সাবধানে পরিকল্পনা করে পাতা ফাদ, যা এমন একটা সিস্টেম যেটা এমন ভাবে বানানো হয়েছে , যাতে বেশিরভাগ মানুষ কোনদিনই এর থেকে বেরই হতে না পারে।
চলুন তো দেখি এই ফাদ টা ঠিক কিভাবে কাজ করে> এই ফাদটা মুলত তিনটা ধাপে কাজ করে,
প্রথমত- একটা চাকরী, এমন একটা চাকরী যা দিয়ে কোন মতে মাসটা চলে যায়, কিন্তু সেখানে ধণী হওয়ার স্বপ্ন দেখাটাও যেন একটা অপরাধ।
দ্বীতিয় ধাপে আসে লোন আর ইএমআই-এর লোভ- দামী ফোন, নতুন গাড়ি, সুন্দর ফ্ল্যাট এই সবের হাতছানি।
আর তৃতীয় ধাপে এসে- মানুষ হয়ে যায়, ভয়ের দাস, চাকরিটা যদি চলে যায়! তাহলেতো সব শেষ ! এই ভয়টায় তখন মানুষকে মুখ বুজে সবকিছু সয্য করে নিতে বাধ্য করে । আর এই ফাদের শেষ পরিনতি কি হয়, জানেন ? যেটা হয়, সেটা হল র্যাট রেস (RAT RACE )
এটা এমন একটা দৌড়, যেখানে মানুষ শুধু দৌড়াচ্ছে ! হাপাচ্ছে ! ঘাম ঝেরাচ্ছে ! কিন্তু এক পা-ও এগুতে পারছে না ! ঠিক যেন একটা গোলক ধাধার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। যতই দৌড়ানো হোক না কেন, দিন শেষে সেই একই জায়গায় এসে দাড়াতে হয়।
তাহলে প্রশ্ন হল, এই ফাদ থেকে বেরোনোর উপায় টা কি ?
ম্যাকিয়াভেলি এখানে একটা দারুন কথা বলেছেন- তার মতে শিংহের গায়ে অনেক জোর থাকতে পারে, কিন্তু সে ফাদ চিনতে পারে না, ফাদ চেনার জন্য দরকার শেয়ালের মত ধুরততা !
আর এই ফাদ থেকে বেরোনোর প্রথম ধাপটায় হল নিজের চিন্তাভাবনা, নিজের দৃষ্ট ভঙ্গিটাকে বদলে ফেলা, পৃথীবিকে একদম একটা নতুন চোখে দেখা,
দেখুন ব্যাপারটা তাহলে পুরটায় একদমই দৃষ্টিভঙ্গির- সাধারন মানুষ যেখানে শুধ সমস্যায় দেখে একজন শেয়ালের মত চালাক মানুষ সেখানে ব্যাবসার সুযোগ খুজে নেয়,
ধরুন কোথাও কোন একটা লম্বা লাইন, মানুষ বিরক্ত হয়ে সরকারকে গালি দিচ্ছে, আর ঠিক তখনই একজন বুদ্ধিমান মানুষ সেখানে ঠান্ডা পানির বোতল বিক্রি করার কথা চিন্তা করে ব্যাবসা শুরু করে দিচ্ছে । এটাই হল পার্থক্য, এটাই হল সেই শেয়ালের দৃষ্টি।
জানেন কি ! আমাদের মস্তিস্কো টা ঠিক রাডারের মত কাজ করে, আপনি যদি এর মধ্যে টাকা আয়করা কঠিন এই দারিদ্রের সফটওয়্যারটি ইন্সটল করে রাখেন, তাহলে আপনার রাডার সবসময় তারই প্রমান খুজে বেড়াবে। আর যদি আপনি সেই সফটওয়্যার টা ডিলিট করে দেন, তাহলে দেখবেন আপনার রাডার সব পরিস্থিতিতে বিজনেস, সম্ভাবনা, ইত্যাদি খুজে বেড়াবে।
বেশ তাহলে এই বার মানুষিকতার বিষয়টা তো গেল
ভদ্রতা বজায় রেখে প্রসঙ্গীক কমমেন্ট করুন
comment url